পৃষ্ঠাসমূহ

বৃহস্পতিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৩

ত্বকে তেজপাতার উপকারীতা

 ত্বকে তেজপাতার উপকারীতা

তেজপাতা সাধারণত সামান্য আকারের গোধূলি রংযুক্ত হয়। এটি খাবারে স্বাদ এবং সুগন্ধ বাড়াতে ব্যবহৃত হয়। তেজপাতা একটি গুণকারী উদ্ভিদ চিকিৎসার লক্ষ্যেও ব্যবহৃত হয়। শুধু তাই না, বরং সৌন্দর্য চর্চায়ও যুগ-যুগ ধরে তেজপাতার ব্যবহার হয়ে আসছে। তেজপাতার পুষ্টি উপাদানের কারণে এটি শরীরে স্বাস্থ্যকর প্রভাব ফেলতে সাহায্য করে।

তেজপাতার উপকারীতা-

  • তেজপাতা- তেজপাতা সিদ্ধ পানির ভাপ ত্বকে অ্যান্টি-এজিং সলিউশন হিসেবে কাজ করে।
  • তেজপাতা ত্বকের বলিরেখা দূর করে, ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।
  • তেজপাতা সিদ্ধ পানি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।
  • ত্বকের ব্রণ দূর করতে কার্যকর।
  • নিয়মিত তেজপাতা সিদ্ধ পানিতে গোসলের ফলে শরীরের দুর্গন্ধ দূর হবে।
  • তেজপাতা সিদ্ধ পানি ঠান্ডা করে চুল ধুলে খুশকি দূর হবে। পাশাপাশি চুল পড়া সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
  • মাঝে-মাঝে কাঁচা তেজপাতা দিয়ে দাঁত ঘষলে, দাঁত চকচকে উজ্জ্বল হবে এবং মুখের দুর্গন্ধ দূর হবে। অর্থাৎ মাউথওয়াশ হিসেবে কাজ করবে।

ত্বকের যত্নে তেজপাতার প্যাক

উপকরন-

  • তেজপাতা- ৪/৫ টি
  • গোলাপজল- ২ চা চামচ
  • মুলতানি মাটি- ২ চা চামচ

ব্যবহার-প্রনালী- এক কাপ পানিতে তেজপাতা দিয়ে মৃদু আঁচে কিছুক্ষন জ্বাল দিয়ে নিতে হবে। এরপর পানি ঠান্ডা করে এতে গোলাপজল এবং মুলতানি মাটি মিশিয়ে ফেস প্যাক তৈরি করে নিতে হবে। এই প্যাক মুখে লাগিয়ে ১৫/২০ মিনিট পরে ধুয়ে নিতে হবে। এতে ত্বক সতেজ এবং উজ্জ্বল হবে।  

উপকরন-

  • তেজপাতা গুঁড়া- ২ চা চামচ
  • লেবুর রস- ১ চা চামচ

ব্যবহার-প্রনালী- তেজপাতার গুঁড়া বা তেজপাতা পানিতে ভিজিয়ে ব্লেন্ড করে এরসাথে লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রেখে ১৫/২০ মিনিট পরে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিতে হবে। এতে ত্বকে ফিরে আসবে উজ্জ্বলতা।

বুধবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৩

দাদ থেকে বাঁচতে করনীয়

 দাদ থেকে বাঁচতে করনীয়

দাদ ত্বকের একটি সংক্রামক চর্মরোগ। ত্বকের উপরে ছত্রাকের সংক্রমণের ফলে সৃষ্ট।

বিভিন্ন ধরনের দাদ থাকতে পারে। যেমন-

  • Tinea Corporis দাদ- এই দাদ শরীরের যে কোন অংশে হয়।
  • Tinea Pedis- এই দাদ পায়ের ত্বকে হয়। যা সাধারণত অথলেটস ফুট নামে পরিচিত।
  • Tinea Cruris- পোকা পোকা দাদ বা ক্রাক দাদ নামেও পরিচিত, যা সাধারণত কুঁচকি বা groin এলাকায় দেখা যায়।
  • Tinea Capitis- এই দাদ মাথার ত্বকে দেখা যায়।
  • Tinea Versicolour- এই দাদ ত্বকে রঙের পরিবর্তন করতে পারে। এই দাদ সাধারণ ভাবে গরম সময়ে দেখা যায়।

দাদের নমুনা/ উপসর্গ-

  • আক্রান্ত স্থানে প্রথমে ছোট লাল ধরনের গোটার মতো হয় এবং চুলকায়।
  • ধীরে-ধীরে ছোট লাল গোটা বৃত্তাকারে বড় হতে থাকে এবং বাদামী বর্ণের হয়।
  • চক্রাকারে বৃদ্ধি পায় এবং চুলকানি বাড়তে থাকে।
  • চুলকানি বৃদ্ধি পায় এবং আক্রান্ত স্থান থেকে আঠালো রস বের হয়।
  • শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হয়। মাথায় হলে সে স্থানের চুল উঠে যায়।
  • নখে হলে, সেক্ষেত্রে নখ ধীরে-ধীরে বিবর্ন হয়ে যায় এবং ছোট-ছোট খন্ডে ভেঙ্গে যেতে পারে।

দাদ থেকে বাঁচতে করনীয়-

  • ত্বকের যত্ন নেওয়া। এবং নিরাপদ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা।
  • বস্ত্র বা পোষাক ব্যবহারে সতর্ক থাকা।
  • পর্যাপ্ত সুষম খাদ্য গ্রহন করা, যাতে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
  • ত্বকে কোন ধরনের অস্বস্তি দেখা দিলে, ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
  • দাদে আক্রান্ত হলে, ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলা এবং সে হিসেবে স্বাস্থ্য সেবা গ্রহন করা।

দাদ থেকে বাঁচতে খাদ্য- 

  • সাধারণ ভাবে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য শরীরে প্রতিরোধশীলতা বৃদ্ধি করে এবং ত্বকের স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করে। যেমন- মাছ, মাংস, ডাল ইত্যাদি প্রোটিন খাবার খাওয়া উচিত।
  • স্বাস্থ্যসম্মত ত্বক পেতে যেসব খাবার খেতে হবে- ফল, সবজি, গুড়, মুড়ি, বিভিন্ন ধরনের শুকনা ফল ইত্যাদি।
  • ভিটামিন এ এবং সি ত্বকের স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। যেমন- গাজর, ব্রোকলি, লেবু, আম, লাল মূলের সবজি ইত্যাদি।
  • পর্যাপ্ত পানি পান করা দাদ থেকে বাচার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পানি ত্বকের স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করে।
  • কর্ণফ্লাওয়ার যুক্ত খাবারে স্যালিসিলিক অ্যাসিড রয়েছে, যা দাদ দূর করতে সাহায্য করে। তাই কর্ণফ্লাওয়ার যুক্ত খাবার খেলে উপকার পাওয়া যাবে।
বিস্তার লাভ-

অতিসহজেই দাদ আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ থেকে সুস্থ্য ব্যক্তির দেহে বিস্তার লাভ করতে পারে। সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির চিরুনি, তোয়ালা, বিছানা ইত্যাদি ব্যবহার করলে সুস্থ্য ব্যক্তির আক্রান্ত হবার সম্ভবনা বেড়ে যায়। এছাড়াও রোগাক্রান্ত পোষা বিড়ালের মাধ্যমেও এটি বেশি বিস্তার লাভ করে।

প্রতিষেধক/প্রতিকার- সাধারণত Antifungal বা ছত্রাক প্রতিরোধক ক্রিম ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। আবার মাথা বা নখের দাদের জন্য ট্যাবলেট দেওয়ারও দরকার পড়তে পারে। তবে সেক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে হবে।

মঙ্গলবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৩

বায়োটিনের কাজ

 বায়োটিনের কাজ

বায়োটিন বা ভিটামিন বি৭ যা দেহের বিপাকে সাহায্য করে। এই বায়োটিন চুলের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন বি৭ বা বায়োটিনের অভাবে চুল পড়ে যায় বা চুল উঠে গিয়ে চুল পাতলা হয়ে যায়।

বায়োটিন বা ভিটামিন বি৭ এর কার্যকারিতা-

  • বায়োটিন মূলত আমিষ বা প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাটি অ্যাসিড ও অন্যান্য উপাদান শরীরে শোষণ করতে সাহায্য করে।
  • বায়োটিন চুল মজবুত করে।
  • শুধু চুল না, বরং ত্বক ও নখেরও যত্ন নেয় বায়োটিন।
  • চুল ভেঙ্গে যাওয়া এবং চুল পড়া দূর করে।
  • চুলের স্বাভাবিক রং ধরে রাখে।
  • চুল ভালো রাখার জন্য বায়োটিন প্রয়োজন। তবে চুল পড়ার জন্য বায়োটিনের অভাবে ঘটছে, এমনটা বলা ভুল হবে। বিভিন্ন কারণে চুল পড়তে পারে। তাই প্রথমে চুল পড়ার আসল কারণটা জানতে হবে।

শরীরে বায়োটিনের অভাব-

  • ত্বক খসখসে এবং লাল হয়ে যায়।
  • ত্বক রুক্ষ এবং শুষ্ক হয়ে প্রদাহের সৃষ্টি করতে পারে।
  • অনেক সময়ে চোখেও সমস্যা দেখা যায়।
  • বায়োটিনের অভাবে চুল ঝরে পড়ে।
  • নখ দুর্বল হয়ে যায়।

বায়োটিন বা ভিটামিন বি৭ সমৃদ্ধ খাবার-

বিভিন্ন ধরনের ডাল, সয়াবিন, চাল, গম, ভুট্টা, ফুলকপি, ডিমের কুসুম, কলিজা, কলা, মাশরুম, চিনা বা কাজু বাদামে যথেষ্ট পরিমাণে বায়োটিন থাকে। প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় এর যেকোন একটি খেলেও শরীরে বায়োটিনের চাহিদা পূরণ হবে।

সোমবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৩

মধুর জাদু


মধুর জাদু

মধু একটি প্রাকৃতিক পদার্থ যা প্রাচীন কাল থেকে এনার্জি সোর্স হিসেবে পরিচিত।


মধু ত্বকের যত্নে দারুণ ভাবে কার্যকর। মধু সাধারণত সব ধরনের ত্বকের জন্যই ভালো। আর মধু হলো প্রাকৃতিক ক্লিনজার হিসেবে কাজ করে। এমনকি কোন কিছু ছাড়াই শুধু মধু ত্বকে ক্লিনজার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এছাড়াও মধু ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ত্বককে নরম এবং কোমল করে।

মধু দিয়ে তৈরি ক্লিনজার-

উপকরন-

  • মধু
  • বেকিং সোডা

ব্যবহার-প্রনালী- মধুতে বেকিং সোডা দিয়ে মুখে মেখে পরিষ্কার করে হালকা গরম পানিতে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। এরপর পছন্দ মতো টোনার লাগিয়ে নিতে হবে।

উপকরন-

  • মধু
  • দুধ/দুধের সর
  • লেবুর রস

ব্যবহার-প্রনালী- স্বাভাবিক ত্বকের ক্ষেত্রে দুধের সর এবং লেবুর রস বাদ দিয়ে শুধু মধু ত্বকে লাগাতে হবে। তবে যাদের শুষ্ক ত্বক, তারা মধুর সাথে দুধের সর মিশিয়ে লাগাবেন। আর যাদের অয়েলি বা তৈলাক্ত স্কিন তারা সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে ব্যবহার করবেন।

রবিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৩

কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পাবার উপায়

 কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পাবার উপায়



কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ-

  • খাদ্য তালিকায় যথেষ্ট পরিমাণে আঁশ জাতীয় খাবার না থাকা।
  • পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পান না করা।
  • দীর্ঘক্ষন শুয়ে বসে থাকা।
  • পায়খানার চাপ আসার পরও তা চেপে রাখা।
  • মানসিক চাপ, উদ্বিগ্নতা ও বিষন্নতা।
  • কিছু-কিছু ঔষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ফলে।

ঘরোয়া উপায়ে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি মিলবে-

  • নিয়মিত ইসবগুল পানিতে গুলিয়ে খাবার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি মিলবে।
  • কলা শুষ্ক এবং শক্ত মল নরম করে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন কলা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন।
  • বেলের সরবত কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কার্যকর। বেল শরীর থেকে টক্সিন দূর করতেও সাহায্য করে।
  • আঁশ জাতীয় খাবার, যেমন- ছোলা, ডাল, গাজর, শশা, টমেটো, আপেল ইত্যাদি খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে।
  • গোটা শস্যদানার মধ্যে রয়েছে লাল আটা, লাল চাল ইত্যাদি। যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করবে।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে দিনে কমপক্ষে ২ লিটার পানি পান করা।
  • ব্যায়াম বা শরীরচর্চার ফলে বৃহদন্ত্র সচল হয় এবং পায়খানা হতে সাহায্য করে। একারণে প্রতিদিন কিছুক্ষন ব্যায়াম বা হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
  • অনেকে পায়খানার চাপ আসলে পায়খানা না করে আটকে রাখে। বিশেষ করে মহিলারা এই কাজটা বেশি করেন। বাইরে কোথাও গেলে পায়খানা আটকে রাখেন। যার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় পড়তে দেখা যায়। তাই এই অভ্যাস থাকলে দ্রুত ছাড়তে হবে।
  • চেষ্টা করতে হবে মানসিক উদ্বিগ্নতা কাটানোর। প্রয়োজন হলে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে চিকিৎসা গ্রহন করতে হবে। কারণ মানসিক প্রশান্তিতে কোষ্ঠকাঠিন্য সেরে উঠবে। 
  • কিছু-কিছু ঔষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সম্ভবনা বেড়ে যায়। সেক্ষেত্রে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে ঔষুধ পরিবর্তন করে নেওয়া যেতে পারে। আবার কিছু কিছু রোগ যেমন- ডায়াবেটিস, থাইরয়েডে সমস্যা থেকেও কষা পায়খানা হতে পারে। তাই এসমস্ত রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করতে হবে।

কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে খাবার-

আঁশ জাতীয় খাবার এবং ফলমূল যেমন- নাশপাতি, খেজুর, আপেল ইত্যাদি দ্রুত কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।

তরল খাবার বড় এবং শিশু সকলের জন্য ভালো। পেট পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। আলুবোখারা, আপেলের রস কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কার্যকর।

দই হজম শক্তি বাড়ায়। এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়ক।

পুদিনা এবং আদার রসের চা-ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কার্যকর।

অলিভ অয়েল, বাদাম এবং অ্যাভোক্যাডোতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর চর্বি যা অন্ত্রকে পিচ্ছিল করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।

ভিটামিন সিতে ভরপুর লেবুর রসে রয়েছে সাইট্রিক অ্যাসিড, যা শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করতে সাহায্য করে। এবং কোষ্ঠকাঠিন্য উপশম করে।

কিসমিস কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কার্যকর।

সকালে খালি পেটে ১ থেকে ২ চা চামচ ক্যাস্টর অয়েল খাবার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি মিলবে।

শনিবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৩

চুল ঘন সহজ প্যাকে

 চুল ঘন সহজ প্যাকে


চুল ঘন করার প্যাক-

উপকরন-

  • গ্রিন টি- ১ টেবিল চামচ
  • অলিভ অয়েল- ১ টেবিল চামচ
  • ডিম- ১ টি

ব্যবহার-প্রনালী- ডিম ফেটে এরসাথে সমপরিমান গ্রিন টির গুঁড়া এবং অলিভ অয়েল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিতে হবে। এই প্যাক পুরো চুল এবং মাথার ত্বকে ভালো করে লাগাতে হবে। এরপর ২৫/৩০ মিনিট পরে চুল শ্যাম্পু করে ধুয়ে নিতে হবে। এই প্যাক পাতলা চুল ঘন করতে কার্যকর। গ্রিন টিতে রয়েছে ক্যাফেইন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ক্যাটেচিন যা স্ক্যাল্পের এবং চুলের ফলিকলের রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে চুলের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটায়।

উপকরন-

  • নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল
  • জবা ফুলের পাপড়ি

ব্যবহার-প্রনালী- জবা ফুলের পাপড়ি ব্লেন্ড করে এরসাথে নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিতে হবে। এই প্যাক পুরো চুলে ভালো করে লাগাতে হবে। প্রায় ২৫/৩০ মিনিট পরে চুল শ্যাম্পু করে ধুয়ে নিতে হবে। চুল ঘন করতে এই প্যাক ভীষণ কার্যকর।

উপকরন-

  • মেথি- ১ টেবিল চামচ
  • টকদই- ১/২ কাপ
  • অলিভ অয়েল- ১ টেবিল চামচ

ব্যবহার-প্রনালী- মেথি পানিতে ভিজিয়ে রেখে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। এরপর এরসাথে টকদই এবং অলিভ অয়েল খুব ভালো করে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিতে হবে। এই প্যাক পুরো চুলে ভালো করে লাগাতে হবে। প্রায় ২৫/৩০ মিনিট পরে চুল শ্যাম্পু করে ধুয়ে নিতে হবে। পাতলা চুল ঘন করতে মেথির এই প্যাক খুবই উপকারী।

শুক্রবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৩

চোখের যত্ন যা উচিত

 চোখের যত্ন যা উচিত

চোখ হলো ভিজ্যুয়াল সিস্টেমের অঙ্গ। চোখ আলো শনাক্ত করে এবং এটিকে নিউরনে ইলেক্ট্রো-কেমিক্যাল ইমপালসে রুপান্তর করে।

চোখের যত্নে যা করা প্রয়োজন-

  • অল্প বা তীব্র আলোতে বই পড়া এবং অন্যান্য কাজকর্ম করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
  • সরাসরি সূর্যের আলো যাতে চোখে না পড়ে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
  • অন্ধকার রুমে টিভি দেখা থেকে বিরত থাকা। এবং দীর্ঘক্ষন একটানা টিভি না দেখা।
  • চোখে প্রসাধনী ব্যবহারের ফলে অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস, ব্লেফারাইটিস স্টাই ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।
  • সাধারণত মাথার চুলে খুশকি থাকলে, চোখেও খুশকি হয়ে ব্লেফারাইটিস রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভবনা বেশি থাকে।
  • চশমা ব্যবহারের সময় চশমা যাতে সবসময় পরিষ্কার থাকে এবং লেন্স যেন ফাটা এবং অস্বচ্ছ না থাকে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।
  • চোখ ভালো রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে। এবং ঘুমানোর ‍পূর্বে ঠান্ডা পরিষ্কার পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে ঘুমানোর অভ্যাস করতে হবে।
  • সাধারণত চল্লিশ বছরের পরে বই পড়তে এবং অন্যান্য কাজে চশমার প্রয়োজন হতে পারে। এক্ষেত্রে চক্ষু বিশেষজ্ঞ দ্বারা চোখের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চশমা ব্যবহার করবেন।
  • সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে বাঁচতে রোদে যাবার সময় সানগ্লাস বা রোদ চশমা ব্যবহার করা উচিত।
  • কাজ শেষে চোখ নিয়মিত ঠান্ডা পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
  • চোখে বিভিন্নসময়ে ধুলিকণা, ছোট কীটপতঙ্গ পড়তে পারে, এসময় চোখ ঘসাঘষি করলে চোখের কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একরণে নরম কটন বাডস বা তুলো পেঁচিয়ে বের করে নিয়ে আসতে হবে।
  • অস্বাভাবিক উচ্চ রক্তচাপ এবং অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের ফলে চোখের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে হবে।
  • এছাড়াও ছোট বাচ্চাদের হুপিংকাশি, ডায়রিয়া, হাম ইত্যাদি রোগে আক্রন্ত হবার ফলে চোখের ক্ষতি হতে পারে। একারণে বাচ্চাদের এসময়ে বিশেষ যত্ন নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৩

চুল পাকা দূর খাবারে

চুল পাকা দূর খাবারে

বয়স বেড়ে গেলে ধীরে-ধীরে চুল তার স্বাভাবিক কালো রং হারিয়ে ধূসর বা সাদা হয়ে যায়। এই রং পরিবর্তনকে চুল পাকা বলে।


চুল পাকার কারণ-

  • বংশগত কারণে চুল পাকে।
  • অতিরিক্ত টেনশন এবং চিন্তার কারণে চুল পাকে।
  • শরীরিক এবং মানসিক কাজের চাপে চুল পাকে।
  • থাইরয়েড জনিত সমস্যার কারণে চুল পাকে।
  • ধূমপানের কারণে চুল পাকে।
  • অসুস্থ্যতা জনিত কারণে, অতিরিক্ত ঔষধ সেবনের ফলে চুল পেকে যেতে পারে।
  • পরিবেশগত কারণে চুল পাকে।
  • সঠিক খাদ্য তালিকা তৈরির অভাবে চুল পাকে।

চুল পাকা রোধে খাবার-

  • ডিম
  • মাশরুম
  • মাছ
  • মাংস
  • দুধ
  • পনির
  • বাদাম
  • গ্রিন টি
  • অলিভ অয়েল

এছাড়াও –

  • মেথি গুঁড়া পানিতে গুলিয়ে খেতে পারলে চুলের সমস্যার সমাধান হবে। কারণ মেথি সকল সমস্যা সমাধানে খুবই উপকারী।
  • সপ্তাহে ৩/৪ দিন ১ চা চামচ করে কালো তিল খাওয়ার ফলে চুল কালো থাকবে।
  • বাদাম দিয়ে তৈরি তেল যেমন চুলের জন্য উপকারী, তেমনি বাদাম খাওয়ার ফলেও চুল পাকা সমস্যা দূর হবে।
  • গাজর বা গাজর দিয়ে তৈরি জুস প্রতিদিন খেলে পাকা চুলের সমস্যা দূর হবে এবং চুলের সৌন্দর্য ধরে রাখা সম্ভব হবে। কারণে গাজরে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন, পটাশিয়াম এবং ক্যারোটিন।
  • ছোলা রাতে ভিজিয়ে পরদিন সকালে কাঁচা ছোলা খাবার ফলেও চুল কালো হবে।কারণ এতে রয়েছে বি১২ এবং ফলিক অ্যাসিড, যা চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখে।

বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৩

ত্বকের যত্নে ভিটামিন সি প্যাক

 ত্বকের যত্নে ভিটামিন সি প্যাক

ভিটামিন সি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রুপে রেডিক্যাল মুক্ত করতে সাহায্য করে। বিভিন্ন ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার শরীরে কোলাজেন উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ভিটামিন সি ত্বককে সুস্থ্য নরম রাখার পাশাপাশি ত্বকের একাধিক উপকার করে।


ত্বকের যত্নে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ প্যাক-

উপকরন-

  • টকদই- ২ টেবিল চামচ
  • লেবুর রস- ১ চা চামচ
  • মধু- ১ চা চামচ

ব্যবহার-প্রনালী- টকদইয়ের সাথে লেবুর রস এবং মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিতে হবে। এই প্যাক ত্বকে লাগিয়ে ১৫/২০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে নিতে হবে।

উপকরন-

  • লেবুর রস- ২ টেবিল চামচ
  • চিনি- ১ চা চামচ

ব্যবহার-প্রনালী- লেবুর রসে চিনি মিশিয়ে ত্বকের স্ক্রাবার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। ত্বকে ৩/৪ মিনিট ধীরে-ধীরে ঘষে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিতে হবে। এতে ত্বকের ট্যান পড়া দূর হবে এবং পাশাপাশি ডার্ক সার্কেল সমস্যার সমাধান মিলবে।

উপকরন-

  • লেবুর রস- ১/২ চা চামচ
  • অলিভ অয়েল- ১ চা চামচ
  • মধু- ১ চা চামচ

ব্যবহার-প্রনালী- অলিভ অয়েলে মধু এবং সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে নিতে হবে। এই মিশ্রণ মুখে, গলায় লাগিয়ে ১৫/২০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে নিতে হবে। এতে ত্বকের ট্যান পড়া দূর হবে এবং পাশাপাশি কালচে দাগছোপ সমস্যার সমাধান মিলবে।

প্যাক ছাড়াও আরও নানা ভাবে ভিটামিন সি ত্বকে ব্যবহার করা যেতে পারেন। যেমন-

  • রোদে বা বাইরে যেতে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে পারেন। এতে ত্বক সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা পাবে।

এছাড়াও ভিটামিন সি ত্বকের একাধিক উপকার করে-

  • ভিটামিন সি শরীরে ইমিউনিটি শক্তি বৃদ্ধি করে।
  • ত্বকের অবাঞ্চিত পিগমেন্টেশন সমস্যার সমাধান করে।
  • ত্বকের বলিরেখা দূর করে ত্বককে মোলায়েম এবং টানটান রাখে।
  • ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে।
  • ভিটামিন সি সমৃদ্ধ সিরাম ডার্ক সার্কেল দূর করতে কার্যকর।
  • ভিটামিন সি ত্বকের বিভিন্ন র‌্যাশ, অ্যালার্জি দূর করতেও ভূমিকা রাখে।
  • ত্বকের ক্ষত দ্রুত নিরাময়ে কার্যকর।
  • ভিটামিন সির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান ত্বকের একাধিক সমস্যা দূর করতে টনিকের মতো কাজ করে।

মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০২৩

ঠোঁটের যত্ন

ঠোঁটের যত্ন


ঠোঁটের মিউকাস মেমব্রেনটি সংবেদনশীল কর্টেক্স এর অংশ যা অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়।


ঠোঁটের ক্ষতির কিছু কারণ-

  • আবহাওয়াগত কারণে বিশেষ করে শীতকালে ঠোঁট তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে শুষ্ক হয়ে যায়।
  • সূর্যের ক্ষতিকর ইউভি রশ্মির প্রভাবে ঠোঁটের ক্ষতি হয়।
  • অনেক সময় সস্তা মানের লিপস্টিক এবং লিপবাম ব্যবহারের ফলে ঠোঁটের ক্ষতি হয়।
  • ঠোঁটের সঠিক এবং পর্যাপ্ত যত্নের অভাবে ঠোঁট শুষ্ক এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
  • ত্বকের একজিমা এবং অ্যালার্জির কারণে ঠোঁটেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
  • দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড় এবং জিব দিয়ে ঠোঁট বারবার ভিজানোর ফলে ঠোঁট শুষ্ক হয়ে ফেটে যায়।
  • ঠোঁটের প্রয়োজনীয় ভিটামিন বি সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবারের অভাবে ঠোঁট শুষ্ক হয়ে ফেটে যায়, এমনকি ঠোঁটের কোণে ঘা-ও দেখা যায়।

ঠোঁটের যত্নে যা করা উচিত-

  • সূর্যের ক্ষতিকর ইউভি রশ্মির হাত থেকে রক্ষা পেতে সানস্ক্রিন সমৃদ্ধ লিপবাম ব্যবহার করতে হবে।
  • ঠোঁটের উপযুক্ত ভালো মানের লিপস্টিকসহ অন্যান্য প্রসাধনী ব্যবহার করতে হবে।
  • দাঁত এবং জিব দিয়ে ঠোঁট কামড় এবং ভিজানোর অভ্যাস ছাড়তে হবে।
  • ধূপমানের অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।
  • পর্যাপ্ত ভিটামিন সমৃদ্ধ ফলমূল শাকসবজি খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে।
  • পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।
  • ঠোঁট শুষ্ক হয়ে ফেটে যাওয়ার আগেই এর সঠিক যত্ন নিতে হবে।
  • সাবান এবং ফেসওয়াশ লেগে ঠোঁটের ক্ষতির যেন না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
  • কি ‍কি দিয়ে ঠোঁটের যত্ন নেওয়া যেতে পারে-
  • রাতে ঘুমানোর আগে ঠোঁট পরিষ্কার করে নারকেল তেল, অলিভ অয়েল বা ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহার করলে উপকার পাবেন।
  • ঠোঁটে ভালো মানের পেট্রোলিয়াম জেলি, ভ্যাসলিন বা লিপবাম ব্যবহার করতে পারেন। নিয়মিত ব্যবহারে ঠোঁট ফাটা সমস্যা দূর হবে।

ঠোঁট পরিষ্কার করতে যা করতে পারেন-

উপকরন-

  • লেবুর রস
  • মধু

ব্যবহার-প্রনালী- লেবুর রসে মধু মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে নিতে হবে। এতে কটন বল ভিজিয়ে ঠোঁটে লাগিয়ে ধীরে-ধীরে ঘষলে মরা চামড়া উঠে গিয়ে ঠোঁট নরম এবং গোলাপী আভা ছড়াবে।

উপকরন-

  • গরম পানি
  • কটন বল

ব্যবহার-প্রনালী- হালকা গরম পানিতে কটন সামান্য ভিজিয়ে ঠোঁটে ধীরে-ধীরে স্ক্রাব করলে ঠোঁটের ব্ল্যাক হেডস সহ মরা চামড়া দূর হয়ে শুষ্কতা কমে আসবে।

উপকরন-

  • গ্লিসারিন
  • মধু

ব্যবহার-প্রনালী- সমপরিমান গ্লিসারিন এবং পানির সাথে কয়েক ফোঁটা মধু মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে নিতে হবে। এই মিশ্রণ রাতে ঘুমানোর আগে ঠোঁটে সারারাত লাগিয়ে রাখলে, ঠোঁট দীর্ঘ সময় পর্যন্ত মোলায়েম এবং কোমল থাকবে। 

সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০২৩

কোলাজেনের অভাব হলে

 কোলাজেনের অভাব হলে

কোলাজেন একধরনের স্ট্রাকচারাল প্রোটিন, যা খাদ্যের বিভিন্ন উপাদানের সহাতায় শরীর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি করে। যা ত্বক, চুল, হাড়, দাঁত, পেশি সহ শরীরের সবকিছু তৈরিতেই ভূমিকা রয়েছে। এটি ত্বক এবং নখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও কার্যকর।

শরীরে কোলাজেনের ঘাটতির কারণ-

  • অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং খাদ্য অভ্যাস।
  • নেশা বা ধূমপানের অভ্যাস।
  • দূষিত পরিবেশে বসবাস করা।
  • আবার কোন রোগের কারনেও শরীরে কোলাজেনের ঘাটতি হতে পারে।

কোলাজেনের অভাবে যা যা হয়-

  • শরীরে কোলাজেনের অভাবে ত্বক শুষ্ক এবং ভাজ পড়ে।
  • ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ে।
  • ত্বকের চামড়া ঝুলে পড়ে।
  • শরীরের জয়েন্টে ব্যথা।
  • চুল ভঙ্গুর হয়ে ঝড়ে পড়ে।
  • হাড় নরম দুর্বল হয়ে যায়।
  • হাড় ছাড়াও মাংস পেশি দুর্বল হয়ে যায়।

কোলাজেন নামক এই প্রোটিন ত্বক এবং চুলের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একারণে বয়সের সাথে-সাথে শরীরে কোলাজেনের ঘাটতি পূরণে প্রয়োজন কোলাজেন সমৃদ্ধ খাবার।

  • অ্যামিনো অ্যাসিড শরীরে কোলাজেন উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মাছ, মাংস, ডিম, বিভিন্ন ধরনের বাদাম, টফু, কটেজ চিজ, দুধ ইত্যাদি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খেলে শরীরে অ্যামিনো অ্যাসিডের মাত্রা বাড়ে। ফলে কোলাজেন তৈরির হারও বেড়ে যায়। এছাড়াও জিঙ্ক শরীরে কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে।
  • জিঙ্ক হলো একধরনের মিনারেল উপাদান যা কোলাজেন তৈরি, স্বাস্থ্যকর ত্বক এবং মজবুত চুলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মাছ, দুগ্ধ জাতীয় খাবার, তিল ও কুমড়ো বীজ, নাটস, দারুচিনি ইত্যাদিতে ভরপুর থাকে জিঙ্ক।
  • ম্যাঙ্গানিজ নামক মিনারেল উপাদান যা কোলাজেন তৈরির উৎসগুলোর কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। বাধাকপি, ফুলকপি, আম, আপেল, গোটা শস্য, বাদাম, সবুজ শাকসবজিতে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ। এই ধরনের খাবার খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে।
  • ভিটামিন সি- ভিটামিন সি কোলাজেন নামক প্রোটিন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ত্বক এবং চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন-কমলা, লেবু, আম, স্ট্রবেরি, আমলকি, গ্রিন পিপার, ব্রকলি ইত্যাদি খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে।

রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৩

হার্ট ভালো রাখার খাবার

 

হার্ট ভালো রাখার খাবার



হার্ট ভালো রাখতে যেসব খাবার খাওয়া দরকার-

রসুন- হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে রসুনের অ্যালিসিন ভীষণ উপকারী। রসুন রক্ত সঞ্চালন এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। একারণে হার্টকে সুস্থ রাখতে প্রতিদিন সকালে ১/২ টি কাঁচা রসুনের কোয়া খেলে উপকার পাওয়া যাবে।

আমন্ড- স্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড, ফাইবার সমৃদ্ধ আমন্ড হার্টের জন্য উপকারী। এতে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এরফলে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের সম্ভবনাও হ্রাস পায়। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ৬/৭ টি আমন্ড খেলে অনেক উপকার মিলবে।

তৈলাক্ত মাছ- হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, মাছের তেলে রয়েছে ডিএইচএ এবং ইপিএ, যা হার্টের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এই দুটি উপাদানের কারনে শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল অর্থাৎ ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমে এবং ভালো কেলেস্টেরলের মাত্রা বাড়তে শুরু করে।

কাঁচা হলুদ- এক টুকরা কাঁচা হলুদই হার্টের খেয়াল রাখতে একাই একশ। এর কারকিউমিন উপাদান হার্টের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই হার্ট অ্যাটাক থেকে বাঁচতে প্রতিদিন সকালে কাঁচা হলুদ খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

কলা- কলা খাওয়া হার্টের জন্য ভালো। এতে রয়েছে পটাশিয়াম, ভিটামিন সি, বি৬ ও ফাইবার। পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। কলাতে রয়েছে ফাইবার যা শরীর থেকে কোলেস্টেরল বের করে দিতে পারে।

ওটস-গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত হোল গ্রেইন জাতীয় খাবার খেলে হৃদরোগে আক্রন্ত হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণে কমে যাবে।কোলেস্টেরল কমাতেও কাজে আসে। একারণে খাদ্য তালিকায় ওটস, আটা, বার্লি এবং লাল চাল রাখতে হবে।

সবুজ শাক-সবজি- ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ শাক-সবজি হার্টকে সুস্থ্য রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে থাকে। একারণে পালংশাক, কলমিশাক, সরিষাশাক খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

অলিভ অয়েল- অলিভ অয়েল স্ট্রোক প্রতিরোধে সহায়তা করে। এতে থাকা মনস্যাচুরেটেড ফ্যাট স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। অলিভ অয়েলের পুষ্টি উপাদান রক্তচাপ কমিয়ে হৃদরোগ থেকে বাঁচায়।

গ্রিন টি- গ্রিন টি রক্তচাপ এবং হার্টের সমস্যায় উপকারী। এটি শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে যেমন সহায়ক, তেমনি ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতেও সাহায্য করে। নিয়মিত গ্রিন টি খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হার্ট স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। কারণ এতে রয়েছে হার্টের জন্য খুব দরকারি পলিফেনল ও ক্যাটেচিন যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।

মধু- মধু সকল রোগের মহৌষধ। এটি হার্টের জন্যও খুবই উপকারী। মধু হৃদপিন্ডে কোলেস্টেরল কমাতে ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন ১ চা চামচ মধু খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

গাজর- গবেষণায় দেখা গেছে গাজরে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উচ্চ রক্তচাপ ও ওজন কমাতে সাহায্য করে। তাই পরোক্ষভাবে হার্টের অসুখে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও কমায়।

লেবু- লেবুর খোসা খেলে হাড় শক্ত হয়। গেঁটে বাত সহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করে লেবুর খোসা। লেবুর খোসা শরীরে খারাপ কোলেস্টরলের মাত্রা কমিয়ে রক্তচাপ কমায়। ফলে হার্টও ভালো থাকে।

পেঁয়ারা- পেঁয়ারাতে রয়েছে খনিজ উপাদান যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে হৃদযত্নের স্বাভাবিক কাজকর্ম বজায় রাখে। এছাড়াও পেঁয়ারা পাতায় রয়েছে ফাইবার, যা সরাসরি খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল কমাতে পারে। তাই নিয়মিত পেঁয়ারা পাতার জুস খাবার ফলে হার্ট সুস্থ্য থাকবে।

আদা- আদার রস হার্টের জন্য ভালো। নিয়মিত আদার রস খেলে হার্ট সুস্থ্য থাকবে।

এছাড়াও হার্ট ভালো রাখতে-

  • নিয়মিত শারীরিক কসরত বা ব্যায়াম করা।
  • স্ট্রেস বা দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা।
  • দৈনিক একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ৭/৯ ঘন্টা ঘুমানো দরকার।


চুলের জন্য কলা ব্যবহার করার সুবিধা কি

  চুলের জন্য কলা ব্যবহার করার সুবিধা কি কলা চুলের গঠন, ঘনত্ব এবং চকচকে বাড়াতে পারে? কলার হেয়ার মাস্কের উপকারিতা DIY হেয়ার মাস্ক রেসিপি চু...