হার্ট ভালো রাখার খাবার
হার্ট ভালো রাখতে যেসব খাবার খাওয়া দরকার-
রসুন- হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে রসুনের অ্যালিসিন ভীষণ উপকারী। রসুন রক্ত
সঞ্চালন এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। একারণে হার্টকে
সুস্থ রাখতে প্রতিদিন
সকালে ১/২ টি কাঁচা রসুনের কোয়া খেলে উপকার পাওয়া যাবে।
আমন্ড- স্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড, ফাইবার সমৃদ্ধ আমন্ড
হার্টের জন্য উপকারী। এতে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এরফলে
হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের সম্ভবনাও হ্রাস পায়। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ৬/৭ টি
আমন্ড খেলে অনেক উপকার মিলবে।
তৈলাক্ত মাছ- হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে,
মাছের তেলে রয়েছে ডিএইচএ এবং ইপিএ, যা হার্টের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এই দুটি উপাদানের
কারনে শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল অর্থাৎ ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমে এবং ভালো কেলেস্টেরলের মাত্রা বাড়তে শুরু করে।
কাঁচা হলুদ- এক টুকরা কাঁচা হলুদই হার্টের খেয়াল রাখতে একাই
একশ। এর কারকিউমিন উপাদান হার্টের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই
হার্ট অ্যাটাক থেকে বাঁচতে প্রতিদিন সকালে কাঁচা হলুদ খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে
হবে।
কলা- কলা খাওয়া হার্টের জন্য ভালো। এতে
রয়েছে পটাশিয়াম, ভিটামিন সি, বি৬ ও ফাইবার। পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। কলাতে
রয়েছে ফাইবার যা শরীর থেকে কোলেস্টেরল বের করে দিতে পারে।
ওটস-গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত হোল গ্রেইন জাতীয় খাবার খেলে
হৃদরোগে আক্রন্ত হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণে কমে যাবে।কোলেস্টেরল কমাতেও কাজে আসে। একারণে খাদ্য তালিকায় ওটস, আটা, বার্লি
এবং লাল চাল রাখতে হবে।
সবুজ শাক-সবজি- ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
সমৃদ্ধ শাক-সবজি হার্টকে সুস্থ্য রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে
থাকে। একারণে পালংশাক, কলমিশাক, সরিষাশাক খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
অলিভ অয়েল- অলিভ অয়েল স্ট্রোক প্রতিরোধে
সহায়তা করে। এতে থাকা মনস্যাচুরেটেড ফ্যাট স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। অলিভ অয়েলের
পুষ্টি উপাদান রক্তচাপ কমিয়ে হৃদরোগ থেকে বাঁচায়।
গ্রিন টি- গ্রিন টি রক্তচাপ এবং হার্টের
সমস্যায় উপকারী। এটি শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে যেমন সহায়ক, তেমনি ভালো কোলেস্টেরল
বাড়াতেও সাহায্য করে। নিয়মিত গ্রিন টি খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হার্ট স্ট্রোকের
ঝুঁকি কমায়। কারণ এতে রয়েছে হার্টের জন্য খুব দরকারি পলিফেনল ও ক্যাটেচিন যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
হিসেবে কাজ করে।
মধু-
মধু সকল রোগের মহৌষধ। এটি হার্টের জন্যও খুবই উপকারী। মধু হৃদপিন্ডে কোলেস্টেরল কমাতে
ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন ১ চা চামচ মধু খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
গাজর- গবেষণায় দেখা গেছে গাজরে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উচ্চ রক্তচাপ ও ওজন কমাতে সাহায্য করে। তাই পরোক্ষভাবে হার্টের অসুখে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও কমায়।
লেবু- লেবুর খোসা খেলে হাড় শক্ত হয়। গেঁটে বাত সহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করে লেবুর খোসা। লেবুর খোসা শরীরে খারাপ কোলেস্টরলের মাত্রা কমিয়ে রক্তচাপ কমায়। ফলে হার্টও ভালো থাকে।
পেঁয়ারা- পেঁয়ারাতে রয়েছে খনিজ উপাদান যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে হৃদযত্নের স্বাভাবিক কাজকর্ম বজায় রাখে। এছাড়াও পেঁয়ারা পাতায় রয়েছে ফাইবার, যা সরাসরি খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল কমাতে পারে। তাই নিয়মিত পেঁয়ারা পাতার জুস খাবার ফলে হার্ট সুস্থ্য থাকবে।
আদা- আদার রস হার্টের জন্য ভালো। নিয়মিত আদার রস খেলে হার্ট সুস্থ্য থাকবে।
এছাড়াও হার্ট ভালো রাখতে-
- নিয়মিত শারীরিক কসরত বা ব্যায়াম করা।
- স্ট্রেস বা দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা।
- দৈনিক একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ৭/৯
ঘন্টা ঘুমানো দরকার।