মেলানিন বাড়বে ঘরোয়া উপাদানে
শরীরে
মেলানিনের পরিমান বেড়ে গেলে ত্বক এবং চুলের রঙ কালো হয়ে যায়। আবার যদি মেলানিনের
পরিমান অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়, সেক্ষেত্রে ত্বক সাদা ফ্যাকাশে হয়ে যায়। এভাবে
অতিরিক্ত সাদা হয়ে যাওয়াকে শ্বেতী রোগ বলে। আর চুল ধূসর বিবর্ন হয়ে যায়, যাকে অকাল
পক্কতা বলে।
বিভিন্ন
প্রাকৃতিক ঘরোয়া উপাদান যেমন- কাঁচা হলুদ, অ্যালোভেরা, টমেটো, শশা, লেবু, আলু
ইত্যাদি ব্যবহারের মাধ্যমে ত্বকে মেলানিন হ্রাস বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
চুলে
মেলানিনের পরিমান নিয়ন্ত্রণ করবে প্রাকৃতিক উপাদান। যেমন-
উপকরন-
- নারকেল তেল- ৩ টেবিল চামচ
- আমলা পাউডার- ২ টেবিল চামচ
ব্যবহার-প্রনালী-
নারকেল তেলে আমলা পাউডার মিশিয়ে মৃদু আঁচে গরম করে নিতে হবে। যতক্ষন না মিশ্রণটি
কালো না হয়ে যায়। এরপর ঠান্ডা করে চুল এবং মাথার ত্বকে লাগিয়ে ৩০/৪০ মিনিট রেখে
শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে নিতে হবে। এতে মাথার ত্বক ঠান্ডা থাকবে এবং অস্বস্তি দূর
হবে।
উপকরন-
- নারকেল তেল- ৩ টেবিল চামচ
- কারি পাতা- ৮/১০ টি
ব্যবহার-প্রনালী-
নারকেল তেলে কারি পাতা মিশিয়ে মৃদু আঁচে গরম করে নিতে হবে। যতক্ষন না মিশ্রণটি
কালো না হয়ে যায়। এরপর ঠান্ডা করে চুল এবং মাথার ত্বকে লাগিয়ে ৩০/৪০ মিনিট রেখে
শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে নিতে হবে। চুলের যত্নে ভীষণ কার্যকর কারি পাতা।
উপকরন-
- অ্যালোভেরা জেল- ৩ টেবিল চামচ
- নারকেল তেল- ২ টেবিল চামচ
- অলিভ অয়েল- ২ টেবিল চামচ
ব্যবহার-প্রনালী-
অ্যালোভেরার পাতা থেকে জেল বের করে এরসাথে নারকেল তেল এবং অলিভ অয়েল মিশিয়ে মিশ্রণ
তৈরি করে নিতে হবে। এই মিশ্রণ চুল এবং মাথার ত্বকে লাগিয়ে ২৫/৩০ মিনিট রেখে
শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে নিতে হবে। এরফলে চুলে আর্দ্রতা বজায় থাকবে এবং চুল হবে
মজবুত।
এছাড়াও-
- ব্রাক্ষ্মী ভৃঙ্গরাজ হেয়ার অয়েল স্ক্যাল্পে পুষ্টি বাড়িয়ে চুলকে অকালে ধূসর হওয়া এবং চুল পড়া থেকে রক্ষা করবে।
- মেহেদিতে হালকা গরম পানি বা চুন দিয়ে ২৫/৩০ মিনিটের জন্য চুলে লাগিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এতে চুল প্রাকৃতিক ভাবে রঙিন হবে।
- তিল বীজের তেল ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ যা চুল পাকা রোধ করবে।
শরীরে
মেলানিনের ঘাটতি বা অভাবের কিছু কারণ নিম্নরুপ-
- বয়স বাড়ার ফলে মেলানিনের উৎপাদন কমে যায়।
- সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনী রশ্মি মেলানিনের ক্ষতি করে।
- জিনগত কারণে মেলানিনের উৎপাদন প্রভাবিত হয়।
- মানসিক চাপের কারণে চুলের ফলিকল স্টেম সেল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
- ধূমপান চুলের ফলিকলগুলিতে রক্ত প্রবাহ ধীর করে দিয়ে মেলানিনকে প্রভাবিত করতে পারে।
- ভিটামিন বি১২ এর অভাবে চুলের ফলিকলে অক্সিজেনের অভাবে চুল বিবর্ন হতে পারে।
- অতিরিক্ত রাসায়নিক পন্যের ব্যবহার মেলানিনের মাত্রার তারতম্য ঘটিয়ে চুলের ক্ষতি করে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন