চুল পড়া বন্ধ করবে পিঁয়াজের রস
পিঁয়াজ একটি দ্বিবর্ষী
অথবা বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম ( Alliumcepa) সারা বিশ্বে পিঁয়াজ খাদ্যদ্রব্য
হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

পিঁয়াজের পুষ্টি উপাদান-
- প্রোটিন
- শর্করাজাতীয় পদার্থ
- ক্যালসিয়াম
- পটাশিয়াম
- সালফার
- ফসফরাস
- ভিটামিন এ, বি, সি এবং ই
- মিনারেল এবং
- ফাইবার।
পিঁয়াজের উপকারীতা-
- পিঁয়াজের বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের কারনে পুষ্টিবিদরা প্রতিদিন একটু করে কাঁচা পিঁয়াজ খেতে বলেন।
- দেহের বিষ মুক্ত করে পিঁয়াজ। কারন এতে রয়েছে কার্মিনেটিভ, অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল, অ্যান্টিসেপ্টিক এবং অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় পদার্থ।
- পিঁয়াজ রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রেখে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে।
- পিঁয়াজের রসের সঙ্গে একটু মধু মিশিয়ে খেলে জ্বর-সর্দি, গলাব্যথা দূর হয়।
- পিঁয়াজ বিভিন্ন এনজাইম বাড়িয়ে হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
- ত্বকের নানা সমস্যা দূর করে। যেমন- পোকার কামড়, ব্রণ এবং রোদের পোড়া ট্যান।
- পিঁয়াজের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষের ডিএনএ কে ক্ষতির থেকে বাঁচিয়ে কোলন ক্যান্সারের মতো রোগের সঙ্গে লড়াই করতে সাহায্য করে।
- পিঁয়াজ রক্তকে জমাট বাঁধতে বাধাঁ দেয় এবং কোলেস্টেরল কমিয়ে হার্ট সুস্থ্য রাখতে সাহায্য করে।
- পিঁয়াজ অ্যাথেরসক্লেরোসিস এবং অস্টিওপোরোসিসের মতো রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে হাড়কে ভালো রাখে।
- বিশেষজ্ঞদের মতে প্রতিদিন পিঁয়াজের রস খেলে যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
- চুলের যত্নে পিঁয়াজের ভূমিকা-
- পিঁয়াজের বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান ও অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল উপাদান চুলকে সুন্দর করে।
- পিঁয়াজের ফলিকল নামক পুষ্টি উপাদান মাথার ত্বকের পুষ্টি পুনর্গঠনে সাহায্য করে।
- পিঁয়াজের রসে রয়েছে সালফার যা চুলের আগা ফাঁটা রোধ করে।
- পিঁয়াজের অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল উপাদান মাথার ত্বকের সংক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করে।
- পিঁয়াজ চুলের অকাল পক্কতা হ্রাস করতে সাহায্য করে।
- পিঁয়াজের অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল উপাদান খুশকি কমাতে কার্যকর।
- পিঁয়াজের রস চুলকে উকুন মুক্ত করে।
- নিয়মিত পিঁয়াজের ব্যবহার চুলকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও ঘন করে।
পিঁয়াজের রস অনেক ধরনের টনিকেই বিভিন্ন ভাবে ব্যবহার করা যায়। এর একটি
ব্যবহার হলো-

উপকরন- পিঁয়াজ, অ্যালোভেরা, ক্যাস্টার অয়েল বা
রেড়ির তেল।
ব্যবহার-পদ্ধতি- পিঁয়াজ বেটে রস ছেঁকে নিতে হবে।
এরসাথে অ্যালোভেরার জেল এবং ক্যাস্টার অয়েল খুব ভালো করে মিশিয়ে পুরো মাথার ত্বক
এবং চুলে মেখে নিতে হবে। ২৫/৩০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করে
কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে।
ক্যাস্টার অয়েলে রয়েছে রাইসিনোলিয়েক অ্যাসিড ও ওমেগা-৬ ফ্যাটি
অ্যাসিড যা ঠিক মতো মালিশ করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে চুলের প্রয়োজনীয় পুষ্টি যুগিয়ে
বৃদ্ধি ঘটায়।
এই মিশ্রণ চুল ঘন ও মজবুত করে। এর অ্যালোভেরা চুলকে মসৃণ করে। এটি
সপ্তাহে একদিন ব্যবহার করতে হবে। তবে চুল পড়ার পরিমানের উপর নির্ভর করে সপ্তাহে
দুইবার ব্যবহার করা যাবে।
বিভিন্ন ঘরোয়া উপাদান রয়েছে যা দিয়ে চুলের যত্ন করা যায়। এর মধ্যে পিঁয়াজ
হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কারন ক্লিনিকালই পরীক্ষিত যে চুলের নানা ধরনের
ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পিঁয়াজের রস দারুণ ভাবে কার্যকর। তবে যত্ন হতে
হবে নিয়মিত।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন