পৃষ্ঠাসমূহ

শনিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

সোরিয়াসিস রোগে করণীয়

 সোরিয়াসিস রোগে করণীয়

সোরিয়াসিস একধরনের প্রদাহজনিত চর্মরোগ। সারা বিশ্বে ১% থেকে ২% মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। যেকোন বয়সের নারী এবং পুরুষ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। সংস্পর্শের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায় না।

সোরিয়াসিস সংক্রমণের স্থান- শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এই রোগ হতে পারে। যেমন-

  • কনুই
  • হাঁটু
  • হাত
  • পা

এছাড়াও মাথাসহ মাথার ত্বক এবং হাতের নখ। হাতের নখে এই রোগ হলে, নখের রং বিবর্ণ হয়ে নষ্ট হয় এবং গর্ত হয়ে যায়।

সোরিয়াসিসের লক্ষণ-

  • ত্বকে লাল ছোট দানা বা ফুসকুড়ির মতো দেখা যায়।
  • ত্বক কিছুটা চুলকাতে পারে।
  • সোরিয়াসিসে আক্রান্ত স্থান এবং চারপাশে ব্যথা হয়।
  • লাল ছোট দানা বা ফুসকুড়িগুলোর উপরে মাছের আঁশের মতো ধূসর বর্নের আবরন পড়ে।
  • ফুসকুড়িগুলো খুঁটলে রক্তক্ষরণও হতে পারে।
  • লাল ছোট দানা বা ফুসকুড়িগুলো বড় হলে পুঁজ দ্বারা পরিপূর্ণ হয়ে প্রদাহের সৃষ্টি করে।
  • ত্বকের প্রদাহের কারণে কখনও কখনও রোগীর জ্বর আসে।

সোরিয়াসিসের প্রভাব-

সোরিয়াসিস ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদে শরীরের অন্যান্য অঙ্গেও প্রভাব ফেলে। সোরিয়াসিসের ফলে আর্থ্রাইটিস, হৃদরোগ,লিভারের রোগ, রক্তে স্নেহজাতীয় পদার্থের ভারসাম্যহীনতা সহ মানসিক রোগ হতে পারে।

এছাড়াও সোরিয়াসিস পুরো শরীরে ছড়িয়ে গিয়ে ইরাইথ্রোডার্মার মতো মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি করে মৃত্যুও ঘটাতে পারে। একারণে প্রথম থেকেই এই রোগের সঠিক চিকিৎসা করা প্রয়োজন।

সোরিয়াসিস রোগে করণীয়-

  • সামান্য আপেল সিডার ভিনেগারের সাথে পানি মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করুন। ১৫/২০ মিনিট পরে আক্রান্ত স্থানটি শুকিয়ে গেলে ধুয়ে নিন। তবে আক্রান্ত স্থান থেকে রক্তপাত হলে এটি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • গরম পানিতে সামান্য ডেড সি বা ইপসম লবণ মিশিয়ে শুষ্ক এবং আঁশ ওঠা স্থানে লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে, এরপর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে আরাম মিলবে।
  • বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত খাদ্যতালিকায় হলুদ সোরিয়াসিস সমস্যায় স্বস্তি দেয়।
  • অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ চা গাছের তেল ব্রণসহ সকল ধরনের চর্মরোগ অ্যাথলিটস ফুট এবং সোরিয়াসিস চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
  • গোসলের ঠান্ডা পানিতে ওটসের গুঁড়া মিশিয়ে গোসলের ফলে সোরিয়াসিস সমস্যার সমাধান হবে।
  • অ্যালোভেরার প্রদাহ বিরোধী উপাদান সোরিয়াসিসে আক্রান্ত স্থানের লালচে ভাব কমাতে সাহায্য করে। এবং স্বস্তি দিতে পারে।
  • এছাড়াও ক্যাপসাইসিনযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করে সোরিয়াসিসের লালচে ভাব, ব্যথা এবংপ্রদাহ কমাতে পারেন।

সোরিয়াসিসের চিকিৎসা- রোগের উপর নির্ভর করে চিকিৎসা ব্যবস্থা কেমন হবে। যেমন-

  • সাধারণত সোরিয়াসিস মৃদু মাত্রার হলে, সেক্ষেত্রে স্টেরয়েড মলম, ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম এবং অয়েন্টমেন্ট ব্যবহার করলেই চলে।
  • মলম বা অয়েন্টমেন্টে কাজ না হলে এবং রোগ বাড়তে থাকলে, সেক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শে মুখে খাবার ঔষধ যেমন- মিথোট্রেক্সেট, সাইক্লোস্পোরিন, এসিট্রেসিন ইত্যাদি গ্রহন করতে হবে।
  • আবার মলম এবং খাবার ঔষধ দিয়েও যদি কাজ না হয়, তবে ক্ষেত্রবিশেষে ফটোথেরাপি, আলট্রাভায়োলেট রশ্মি দিয়েও চিকিৎসা দেওয়া হয়।
  • সোরিয়াসিস দিয়ে নখ আক্রান্ত হলে ইনজেকশন দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
  • সন্ধি আক্রান্তের ক্ষেত্রে বাতরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা গ্রহন করতে হবে।

সোরিয়াসিস বংশগত দীর্ঘমেয়াদী চর্মরোগ। একবার আক্রন্ত হলে, এই রোগ থেকে নিস্তার পাওয়া যায় না। তাই এই রোগে আক্রান্ত হওয়া থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করতে হবে। এর জন্য যা করা প্রয়োজন-

  • সুস্থ্য স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে হবে।
  • ধূপমান থেকে বিরত থাকা।
  • শরীরে সঠিক এবং আদর্শ ওজন বজায় রাখা।
  • মানসিক স্ট্রেস থেকে দূরে থাকা।
  • পর্যাপ্ত সুষম খাদ্য গ্রহন করা।
  • সোরিয়াসিস যেহেতু বংশগত রোগ তাই গর্ভবতী নারীর গর্ভধারনের সময় ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সন্তন ধারণ করা, যাতে পেটের সন্তান এই রোগে আক্রান্ত না হয়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

চুলের জন্য কলা ব্যবহার করার সুবিধা কি

  চুলের জন্য কলা ব্যবহার করার সুবিধা কি কলা চুলের গঠন, ঘনত্ব এবং চকচকে বাড়াতে পারে? কলার হেয়ার মাস্কের উপকারিতা DIY হেয়ার মাস্ক রেসিপি চু...