পৃষ্ঠাসমূহ

সোমবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

ত্বকে চারকোলের ব্যবহার

 ত্বকে চারকোলের ব্যবহার

ত্বকে চারকোলের ব্যবহার-

  • চারকোল ত্বকের অতিরিক্ত তেল ময়লা দূর করে ত্বক পরিষ্কার করে।
  • চারকোল ত্বকের এক্সফোলিয়েট করে মরা চামড়া তুলে ত্বক উজ্জ্বল করে।
  • চারকোল ব্যবহারের মাধ্যমে বন্ধ লোমকূপের মুখ খুলে যায়। এবং ব্রণ সমস্যার সমাধান হয়।
  • চারকোলের অ্যান্টিফাঙ্গাল এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান ত্বকের ক্ষত জনিত সমস্যা দূর করে।

ত্বকে চারকোলের ব্যবহার প্রনালী-

উপকরন-

  • চারকোল
  • আপেল সিডার ভিনেগার

ব্যবহার-প্রনালী- ত্বকের প্রয়োজন মতো চারকোল নিয়ে এরসাথে সমপরিমান আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিতে হবে। এই প্যাক ত্বকে লাগিয়ে নিতে হবে। ১০/১৫ মিনিট পরে পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এরফলে ব্রণের হাত থেকে মুক্তি মিলবে।

উপকরন-

  • চারকোল
  • অ্যালোভেরা জেল
  • টি ট্রি অয়েল
  • লবণ
  • সামান্য পানি

ব্যবহার-প্রনালী- ত্বকের প্রয়োজন মতো চারকোল নিয়ে এরসাথে অ্যালোভেরা জেল, সামান্য লবণ এবং পানি মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিতে হবে। এই প্যাক ত্বকে লাগিয়ে নিতে হবে। ১০/১৫ মিনিট পরে পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এরফলে ব্রণ সমস্যার সমাধান হবে।

উপকরন-

  • চারকোল
  • নারকেল তেল

ব্যবহার-প্রনালী- চারকোলে নারকেল তেল মিশিয়ে ত্বকে হালকা হাতে ২/৩ মিনিট ম্যাসাজ করে পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এরফলে ত্বক হবে নরম এবং সতেজ। ভালো ফলাফল পেতে তৈলাক্ত ত্বকে এই প্যাক সপ্তাহে দুইদিন ব্যবহার করতে হবে। তবে শুষ্ক ত্বকে একদিন ব্যবহার করলেই চলবে।

এছাড়াও চারকোলে পরিষ্কার পানি দিয়ে প্যাক তৈরি করে ত্বকে ডিপ ক্লিঞ্জার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। ১০/১২ মিনিট অপেক্ষা করে হালকা গরম পানিতে মুখ ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে নিতে হবে।

রবিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

ত্বকে চন্দনের উপকারিতা

 ত্বকে চন্দনের উপকারিতা

চন্দন যার বৈজ্ঞানিক নাম Santalum album প্রায় ১০০ বছর পর্যন্ত এই উদ্ভিদ বেঁচে থাকতে পারে। ত্বকের বিভিন্ন প্রসাধনী ছাড়াও এন্টিসেপ্টিক, বাতের ব্যাথা এবং এন্টিইনফ্লামেশনেও ব্যবহার করা হয়।

ত্বকে চন্দনের উপকারিতা-

  • ত্বককে উজ্জ্বল এবং মসৃণ করে।
  • বলিরেখা দূর করে ত্বকের তারুণ্যতা বজায় রাখে।
  • সানবার্ন বা রোদে পোড়া ভাব দূর করে।
  • চোখের নিচের কালো ভাব দূর করতে সহায়তা করে।

এছাড়াও দুধের সাথে সাদা চন্দনের পেস্ট খালিপেটে খাবার ফলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

ত্বকে চন্দনের প্যাক -

উপকরন-

  • চন্দন গুঁড়া
  • টমেটোর রস
  • মুলতানি মাটি
  • গোলাপজল

ব্যবহার-প্রনালী- পরিমান মতো চন্দন গুঁড়ার সাথে মুলতানি মাটি, টমেটোর রস এবং কিছুটা গোলাপজল মিশিয়ে ঘন প্যাক তৈরি করে নিতে হবে। এই প্যাক মুখে, গলা, ঘাড়ে মেখে রাখতে হবে। এভাবে ১৫/২০ মিনিট রেখে প্যাক কিছুটা শুকিয়ে আসলে পরিষ্কার ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এরফলে ত্বকের অতিরিক্ত তৈলাক্ততা দূর হবে। লোমকূপ পরিষ্কার থাকবে, পাশাপাশি ব্ল্যাক হেডস এবং হোয়াইট হেডস থেকে মুক্তি মিলবে।

উপকরন-

  • চন্দন গুঁড়া
  • কমলার খোসা
  • গোলাপজল

ব্যবহার-প্রনালী- চন্দন গুঁড়ার সাথে কমলার খোসা শুকিয়ে গুঁড়া বা কাঁচা ব্লেন্ড করে নিয়ে সামান্য গোলাপজল দিয়ে প্যাক তৈরি করে নিতে হবে। এই প্যাক মুখে, গলা, ঘাড়ে মেখে রাখতে হবে। এভাবে ১৫/২০ মিনিট রেখে প্যাক কিছুটা শুকিয়ে আসলে পরিষ্কার ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এরফলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।

উপকরন-

  • চন্দন গুঁড়া
  • নারকেল তেল
  • আমন্ড অয়েল
  • গোলাপজল

ব্যবহার-প্রনালী- চন্দন গুঁড়ার সাথে, নারকেল তেল, আমন্ড অয়েল এবং সমান্য গোলাপজল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিতে হবে। এই প্যাক মুখে, গলা, ঘাড়ে মেখে রাখতে হবে। এভাবে ১৫/২০ মিনিট রেখে প্যাক কিছুটা শুকিয়ে আসলে পরিষ্কার ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এই প্যাক শুষ্ক ত্বকের জন্য উপকারী। এরফলে ত্বকের শুষ্কতা দূর হবে এবং ত্বকে আর্দ্রতা বজায় থাকবে।

উপকরন-

  • চন্দন গুঁড়া
  • নিমপাতা

ব্যবহার-প্রনালী- চন্দন গুঁড়ার সাথে নিম পাতা ব্লেন্ড করে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিতে হবে। এই প্যাক মুখে লাগিয়ে রাখতে হবে। এভাবে ১৫/২০ মিনিট রেখে পরিষ্কার ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এই প্যাক ব্রণ দূর করতে কার্যকর।

উপকরন-

  • চন্দন গুঁড়া
  • শশা
  • টকদই

ব্যবহার-প্রনালী- চন্দন গুঁড়ার সাথে শশার রস এবং টকদই মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিতে হবে। এই প্যাক মুখে লাগিয়ে রাখতে হবে। এভাবে ১৫/২০ মিনিট রেখে পরিষ্কার ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। সানবার্ন বা রোদে পোড়া কালচে দাগ দূর করতে কার্যকর।

উপকরন-

  • চন্দন গুঁড়া
  • লেবুর রস

ব্যবহার-প্রনালী- চন্দন গুঁড়ার সাথে লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখতে হবে। এভাবে ১০/১৫ মিনিট রেখে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এতে ত্বকের অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব দূর হবে।

উপকরন-

  • চন্দন গুঁড়া
  • পাকা পেঁপে

ব্যবহার-প্রনালী- চন্দন গুঁড়ার সাথে পাকা পেঁপের রস মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে নিয়ে ৭/৮ মিনিট ম্যাসাজ করে ১২/১৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। এরফলে ত্বকের মরা চামড়া উঠে গিয়ে ত্বক গভীর থেকে পরিষ্কার হবে।

শনিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

আখের রসে চুলের উপকার

 

আখের রসে চুলের উপকার

ইক্ষু শব্দ থেকে আখ শব্দের উৎপত্তি, যার বৈজ্ঞানিক নাম Saccharum officinarum বর্ষজীবি এই উদ্ভিদ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ। শরীরে শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি কিডনি ভালো রাখতে আখের রস উপকারী। এছাড়াও হজম শক্তি বাড়ায় আখের রস। সকলের জন্যই আখের রস উপকারী। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে আখের রস পান করা উচিত।

আখের পুষ্টি উপাদান-

  • কার্বোহাইড্রেট
  • প্রোটিন
  • আয়রন
  • ভিটামিন
  • মিনারেল
  • জিঙ্ক
  • ম্যাঙ্গানিজ
  • ক্যালসিয়াম
  • পটাশিয়াম
  • পলিফেনল
  • অ্যামাইনো অ্যাসিড

আখের উপকারিতা-

  • ত্বক ও চুলের যত্নে দারুণ উপযোগী।
  • আখের রস শরীরকে হাইড্রেট রাখে। এরফলে ত্বক এবং চুল ভালো থাকে।
  • শরীরকে পানিশূন্যতার হাত থেকে রক্ষা করে।
  • শরীরে শক্তির মাত্রা বাড়িয়ে দেয় আখের রস।
  • আখের রস শরীরে ফ্লবোনয়েড উপাদান বাড়িয়ে ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে।
  • আখের রসে রয়েছে ক্যালসিয়াম, যা হাড় ও দাঁতকে মজবুত করে। পাশাপাশি আখ চিবিয়ে খাবার ফলে দাঁত এবং মাড়ি ভালো থাকে।
  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ আখের রস ইউরিনারি ট্র্যাকের সংক্রমণ রুখতে সহায়তা করে।
  • আখের রসে রয়েছে আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড যা স্কিন সেলের উৎপাদন বাড়িয়ে ব্রণ এবং ব্রণের দাগ দূর করতে সাহায্য করে।

আখের রসে চুলের যত্ন-

  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ আখের রস চুলের অকালপক্কতা রোধ করে।
  • আখের রস চুল এবং মাথার ত্বককে হাইড্রেট রাখে।
  • চুলকে নরম, কোমল এবং উজ্জ্বল রাখে।
  • চুলের রুক্ষতা দূর করে চুলকে মসৃণ করে।
  • আখের রসে রয়েছে নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান যা চুলের ফলিকলগুলোকে মজবুত করে।
  • আখের রস নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।
  • চুলের দ্রুত বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
  • চুলের খুশকি সমস্যার সমাধান করে।
  • পাতলা চুলকে ঘন করতে সাহায্য করে।
  • আখের রস চুল কন্ডিশনিং করে।
  • আখের রসে রয়েছে গ্লাইকোলিক অ্যাসিড যা স্ক্যাল্পের শুষ্কতা সহ সকল ধরনের সমস্যা দূর করে।

 

শুক্রবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

জোজোবা তেলে চুলের যত্ন

 জোজোবা তেলে চুলের যত্ন

জোজোবা প্রজাতির বৃক্ষের বীজ থেকে তৈরি জোজোবা অয়েল। এই তেল চুলের যত্নে ব্যবহার করা হয়। এই তেল চুলের বিভিন্ন সমস্যার যত্ন সহকারে সমাধান করে এবং চুল স্বাস্থ্যকর রাখতে ব্যবহৃত হয়। চুলসহ স্কিনকেয়ার প্রোডাক্টসেও জোজোবা অয়েল ব্যবহার করা হয়।

চুলে জোজোবা তেলের উপকারিতা-

  • চুলের শুষ্কতা দূর করে চুলকে মোলায়েম করে।
  • অ্যান্টি ফাঙ্গাল সমৃদ্ধ জোজোবা অয়েল খুশকি দূর করতে সাহায্য করে।
  • চুলের পর্যাপ্ত পুষ্টি প্রদান করে চুলের গোড়া মজবুত করে এবং অকালে চুল ঝরে পড়া রোধ করে।
  • সপ্তাহে ২/৩ দিন জোজোবা অয়েল মাথায় ম্যাসাজ করলে, নতুন চুল গজাবে।
  • জোজোবা অয়েলে রয়েছে মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট যা চুলকে ভীতর থেকে শক্তিশালী করে।
  • জোজোবা অয়েলে চুলের রুক্ষতা দূর করে চুলকে আর্দ্র করে।
  • জোজোবা অয়েলে চুলের আগা ফাটা দূর করতে কার্যকর।
  • নিয়মিত জোজোবা অয়েল ব্যবহারে ফলে চুল দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
  • পাতলা চুলকে ঘন করে জোজোবা অয়েল।

উপকরন-

  • জোজোবা অয়েল- ১ চা চামচ
  • ক্যাস্টর অয়েল- ১ চা চামচ
  • রোজমেরি অয়েল- ২/৩ ফোঁটা

ব্যবহার-প্রনালী- জোজোবা অয়েল, ক্যাস্টর অয়েল এবং কয়েক ফোঁটা রোজমেরি অয়েল মিশিয়ে চুলের গোড়ায় এবং মাথার ত্বকে হালকা হাতে ম্যাসাজ করে অপেক্ষা করতে হবে। এভাবে ২০/২৫ মিনিট পর চুল শ্যাম্পু করে ধুয়ে নিতে হবে। এরফলে স্ক্যাল্পে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ দূর হবে। পাশাপাশি চুলের গোড়া শক্ত করে চুল পড়া কমাবে।

এছাড়াও জোজোবা অয়েল সরাসরি চুল এবং মাথার ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন।

বুধবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

থানকুনি পাতার উপকারিতা

থানকুনি পাতার উপকারিতা

থানকুনি ছোট বর্ষজীবী উদ্ভিদ। ভেষজ এই উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম Centella asiatica ভেষজ এই উদ্ভিদের রয়েছে বিভিন্ন ব্যবহার। এটি রান্না করে খাওয়া থেকে শুরু করে ঔষুধ হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। এটি চুল এবং ত্বকের যত্নেও ব্যবহার করা হয়।



থানকুনি পাতার পুষ্টি উপাদান-

  • অ্যামাইনো অ্যাসিড
  • ক্যালসিয়াম
  • আয়রন
  • ম্যাগনেসিয়াম
  • পটাসিয়াম
  • ফসফরাস
  • ক্যারোটিনয়েড
  • বিটা ক্যারোটিন
  • ফ্যাটি অ্যাসিড
  • ফাইটোকেমিক্যাল
  • ভিটামিন-এ, সি, বি৯

থানকুনি পাতার গুনাগুণ-

  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ থানকুনি পাতা ত্বককে সতেজ প্রাণবন্ত করে।
  • থানকুনি পাতাতে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান যা ত্বকের ব্রণ এবং ব্রণের দাগ দূর করে।
  • থানকুনি পাতায় রয়েছে অ্যামাইনো অ্যাসিড, বিটা ক্যারোটিন, ফ্যাটি অ্যাসিড, ফাইটোকেমিক্যাল যা ত্বককে আর্দ্র এবং কোমল রাখতে সাহায্য করে।
  • ভিটামিন সি সমৃদ্ধ থানকুনি পাতা সর্দি, কাশি, গলা ব্যাথার জন্য উপকারী।
  • থানকুনি পাতা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। যার ফলে পেটের অসুখ, মুখের ঘা, আমাশয় সহ বিভিন্ন রোগে উপকারি।
  • থানকুনি পাতার অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

উপকরন-

  • থানকুনি পাতা
  • তুলসি পাতা
  • আমলা

ব্যবহার-প্রনালী- থানকুনি পাতার সাথে তুলসি পাতা এবং আমলা একসাথে নিয়ে ব্লেন্ড করে ঘন পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে। এই পেস্ট চুলে এবং মাথার ত্বকে ভালো করে লাগিয়ে নিতে হবে। ৩০/৪০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে নিতে হবে। এরফলে চুল চুল পড়া বন্ধ হবে।

এছাড়াও অন্য কোন উপাদান ছাড়া শুধু থানকুনি পাতা বেটে রস তৈরি করে চুলে লাগালেও উপকার পাওয়া যাবে।

থানকুনি পাতার নির্যাস ময়েশ্চারাইজার এবং টোনার হিসেবে ত্বকে ব্যবহার করলে উপকার পাবেন।  

মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

কালোজিরাতে চুল পড়া কমবে

কালোজিরাতে চুল পড়া কমবে

কালোজিরার তেলে রয়েছে লিনোলিক এসিড, অলিক এসিড, ফসফেট, লৌহ, কার্বোহাইড্রেট, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সেলেনিয়াম, ভিটামিন-এ, বি, বি২, ভিটামিন সি ছাড়াও জীবাণুনাশক বিভিন্ন উপাদান যা হাজারও রোগের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

কালোজিরার পুষ্টি উপাদান-

কালোজিরার অন্যতম উপাদানের মধ্যে রয়েছে নাইজেলোন, থাইমোকিনোন ও স্থায়ী তেল। এছাড়াও-

১০০ গ্রাম কালোজিরার পুষ্টি উপাদান-

  • আমিষ- ২০৮ মাইক্রোগ্রাম
  • ভিটামিন বি১- ১৫ মাইক্রোগ্রাম
  • নিয়াসিন- ৫৭ মাইক্রোগ্রাম
  • ক্যালসিয়াম- ১.৮৫ মাইক্রোগ্রাম
  • আয়রন- ১০৫ মাইক্রোগ্রাম
  • ফসফরাস- ৫.২৬ মিলিগ্রাম
  • কপার- ১৮ মাইক্রোগ্রাম
  • জিঙ্ক- ৬০ মাইক্রোগ্রাম
  • ফোলাসিন- ৬১০ আইউ
চুলের যত্নে কালোজিরার ভূমিকা-

  • কালোজিরা চুল পড়া কমায় এবং চুল গজাতে সাহায্য করে।
  • চুলের দ্রুত বৃদ্ধি করে।
  • চুলের ফলিকলগুলোকে শক্তিশালী করে।
  • চুলকে প্রাকৃতিক ভাবে ময়েশ্চারাইজড করে।
  • চুল এবং মাথার ত্বকের শুষ্কতা দূর করে।

চুলের যত্নে কালোজিরার ব্যবহার-

উপকরন-

  • কালোজিরা- ১ টেবিল চামচ
  • নারকেল তেল- ১ চা চামচ
  • মধু- ১ চা চামচ

ব্যবহার-প্রনালী- কালোজিরা গুঁড়া বা তেলের সাথে নারকেল তেল এবং মধু মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে নিতে হবে। এই মিশ্রণ চুলের গোড়ায় লাগিয়ে তোয়ালা গরম পানিতে ভিজিয়ে হালক গরম তেয়ালা দিয়ে চুল এবং মাথা ঢেকে রাখতে হবে প্রায় ১৫থেকে ২০ মিনিট। এরপর ৩০/৪০ মিনিট পরে শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে পরিষ্কার নিতে হবে। এরফলে স্ক্যাল্পের চর্মরোগ সহজে দূর হবে।

উপকরন-

  • কালোজিরা
  • লেবু

ব্যবহার-প্রনালী- কালোজিরার তেলের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে নিতে হবে। এই মিশ্রণ স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করে নিতে হবে। এরপর ৩০/৪০ মিনিট পরে শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে নিতে হবে। এরফলে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ লেবু কালোজিরার তেলের সাথে মিশে চুল পড়া দূর করবে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে।

সোমবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

চুলের দুর্গন্ধ কারণ ও প্রতিকার

চুলের দুর্গন্ধ কারণ ও প্রতিকার

শরীরের মতো চুলেও দুর্গন্ধ হয় বিশেষ করে মাথার ত্বক যদি তৈলাক্ত হয়, তবে ধুলা বালি, ময়লা এবং ঘাম জমে দুর্গন্ধ হয়।

চুল দুর্গন্ধ হওয়ার কারণ-

  • মাথার ত্বক তৈলাক্ত হলে।
  • চুল এবং স্ক্যাল্পে ঘাম জমে।
  • হরমোনাল জনিত সমস্যার কারণে।
  • মানসিক স্ট্রেসের কারণে।
  • চুলে অতিরিক্ত কেমিক্যাল ব্যবহারের ফলে।
  • স্ক্যাল্পে ব্যাকটেরিয়া কারণে চুলে দুর্গন্ধ হয়।
  • মাথার ত্বকে ইনফেকশন এবং রোগের ফলে চুলে দুর্গন্ধ হয়।

চুলের দুর্গন্ধ দূর করার উপায়-

  • চুলে সপ্তাহে ২/৩ দিন তেল ব্যবহার করা।
  • সপ্তাহে ২/৩ দিন চুলে শ্যাম্পু ব্যবহার করা। এবং প্রত্যেকবার শ্যাম্পু করার পূর্বে চুলে তেল ব্যবহার করা।
  • চুল এবং স্ক্যাল্পের ধরন বুঝে হেয়ার প্রোডাক্ট নির্বাচন করতে হবে।
  • সিল্কি চুলের জন্য চুলে সিরাম ব্যবহার করা।

ঘরোয়া উপাদানে চুলের দুর্গন্ধ দূর-

উপকরন-

  • লেবুর রস
  • টকদই

ব্যবহার-প্রনালী- চুলের দুর্গন্ধ দূর করতে শ্যাম্পু করার পর এক কাপ পানিতে দুটো লেবুর রস মিশিয়ে পুরো চুল এবং মাথার ত্বক ধুয়ে নিতে হবে। ৪/৫ মিনিট এই মিশ্রণ রেখে ধুয়ে নিতে হবে। সপ্তাহ ২/১ দিন করলেই হবে। তবে স্ক্যাল্পে ফাঙ্গাল ইনফেকশন থাকলে ১ কাপ দইয়ে ২ টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিতে হবে। এই প্যাক পুরো চুল এবং মাথায় ভালো করে লাগিয়ে অপেক্ষা করতে হবে। ৩০/৩৫ মিনিট পরে শ্যাম্পু করে ধুয়ে নিতে হবে। এভাবে সপ্তাহে একদিন ব্যবহার করতে পারেন।

উপকরন-

  • টমেটো

ব্যবহার-প্রনালী- চুলের প্রয়োজন মতো টমেটো ব্লেন্ড করে নিতে হবে। এরপর পুরো চুল এবং মাথায় ভালো করে লাগিয়ে অপেক্ষা করতে হবে। ১৫/২০ মিনিট পরে শ্যাম্পু করে ধুয়ে নিতে হবে। এরফলে চুলের দুর্গন্ধ দূর হবে এবং টমেটো চুলের পিএইচ মাত্রা বজায় রাখে। এভাবে সপ্তাহে এক থেকে দুইদিন ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল মিলবে।

এছাড়াও-

  • খাদ্য তালিকায় সবজি সালাদ রাখতে হবে। আমিষ, ইষ্ট এবং শর্করাযুক্ত খাবারের পরিবর্তে আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে।
  • পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। এরফলে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ভালোভাবে কাজ করবে এবং চুলের বাজে দুর্গন্ধ কমবে।

তবে চুল এবং স্ক্যাল্পে দুর্গন্ধের পাশাপাশি যদি অন্য কোন সমস্যা থাকে, সেক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ডার্মাটোলজিস্টের  সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।

রবিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

মেলানিন বাড়বে ঘরোয়া উপাদানে

 মেলানিন বাড়বে ঘরোয়া উপাদানে

শরীরে মেলানিনের পরিমান বেড়ে গেলে ত্বক এবং চুলের রঙ কালো হয়ে যায়। আবার যদি মেলানিনের পরিমান অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়, সেক্ষেত্রে ত্বক সাদা ফ্যাকাশে হয়ে যায়। এভাবে অতিরিক্ত সাদা হয়ে যাওয়াকে শ্বেতী রোগ বলে। আর চুল ধূসর বিবর্ন হয়ে যায়, যাকে অকাল পক্কতা বলে।


বিভিন্ন প্রাকৃতিক ঘরোয়া উপাদান যেমন- কাঁচা হলুদ, অ্যালোভেরা, টমেটো, শশা, লেবু, আলু ইত্যাদি ব্যবহারের মাধ্যমে ত্বকে মেলানিন হ্রাস বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

চুলে মেলানিনের পরিমান নিয়ন্ত্রণ করবে প্রাকৃতিক উপাদান। যেমন-

উপকরন-

  • নারকেল তেল- ৩ টেবিল চামচ
  • আমলা পাউডার- ২ টেবিল চামচ

ব্যবহার-প্রনালী- নারকেল তেলে আমলা পাউডার মিশিয়ে মৃদু আঁচে গরম করে নিতে হবে। যতক্ষন না মিশ্রণটি কালো না হয়ে যায়। এরপর ঠান্ডা করে চুল এবং মাথার ত্বকে লাগিয়ে ৩০/৪০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে নিতে হবে। এতে মাথার ত্বক ঠান্ডা থাকবে এবং অস্বস্তি দূর হবে।

উপকরন-

  • নারকেল তেল- ৩ টেবিল চামচ
  • কারি পাতা- ৮/১০ টি

ব্যবহার-প্রনালী- নারকেল তেলে কারি পাতা মিশিয়ে মৃদু আঁচে গরম করে নিতে হবে। যতক্ষন না মিশ্রণটি কালো না হয়ে যায়। এরপর ঠান্ডা করে চুল এবং মাথার ত্বকে লাগিয়ে ৩০/৪০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে নিতে হবে। চুলের যত্নে ভীষণ কার্যকর কারি পাতা।

উপকরন-

  • অ্যালোভেরা জেল- ৩ টেবিল চামচ
  • নারকেল তেল- ২ টেবিল চামচ
  • অলিভ অয়েল- ২ টেবিল চামচ

ব্যবহার-প্রনালী- অ্যালোভেরার পাতা থেকে জেল বের করে এরসাথে নারকেল তেল এবং অলিভ অয়েল মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে নিতে হবে। এই মিশ্রণ চুল এবং মাথার ত্বকে লাগিয়ে ২৫/৩০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে নিতে হবে। এরফলে চুলে আর্দ্রতা বজায় থাকবে এবং চুল হবে মজবুত।

এছাড়াও-

  • ব্রাক্ষ্মী ভৃঙ্গরাজ হেয়ার অয়েল স্ক্যাল্পে পুষ্টি বাড়িয়ে চুলকে অকালে ধূসর হওয়া এবং চুল পড়া থেকে রক্ষা করবে।
  • মেহেদিতে হালকা গরম পানি বা চুন দিয়ে ২৫/৩০ মিনিটের জন্য চুলে লাগিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এতে চুল প্রাকৃতিক ভাবে রঙিন হবে।
  • তিল বীজের তেল ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ যা চুল পাকা রোধ করবে।

শরীরে মেলানিনের ঘাটতি বা অভাবের কিছু কারণ নিম্নরুপ-

  • বয়স বাড়ার ফলে মেলানিনের উৎপাদন কমে যায়।
  • সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনী রশ্মি মেলানিনের ক্ষতি করে।
  • জিনগত কারণে মেলানিনের উৎপাদন প্রভাবিত হয়।
  • মানসিক চাপের কারণে চুলের ফলিকল স্টেম সেল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
  • ধূমপান চুলের ফলিকলগুলিতে রক্ত প্রবাহ ধীর করে দিয়ে মেলানিনকে প্রভাবিত করতে পারে।
  • ভিটামিন বি১২ এর অভাবে চুলের ফলিকলে অক্সিজেনের অভাবে চুল বিবর্ন হতে পারে।
  • অতিরিক্ত রাসায়নিক পন্যের ব্যবহার মেলানিনের মাত্রার তারতম্য ঘটিয়ে চুলের ক্ষতি করে।

শনিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

সোরিয়াসিস রোগে করণীয়

 সোরিয়াসিস রোগে করণীয়

সোরিয়াসিস একধরনের প্রদাহজনিত চর্মরোগ। সারা বিশ্বে ১% থেকে ২% মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। যেকোন বয়সের নারী এবং পুরুষ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। সংস্পর্শের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায় না।

সোরিয়াসিস সংক্রমণের স্থান- শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এই রোগ হতে পারে। যেমন-

  • কনুই
  • হাঁটু
  • হাত
  • পা

এছাড়াও মাথাসহ মাথার ত্বক এবং হাতের নখ। হাতের নখে এই রোগ হলে, নখের রং বিবর্ণ হয়ে নষ্ট হয় এবং গর্ত হয়ে যায়।

সোরিয়াসিসের লক্ষণ-

  • ত্বকে লাল ছোট দানা বা ফুসকুড়ির মতো দেখা যায়।
  • ত্বক কিছুটা চুলকাতে পারে।
  • সোরিয়াসিসে আক্রান্ত স্থান এবং চারপাশে ব্যথা হয়।
  • লাল ছোট দানা বা ফুসকুড়িগুলোর উপরে মাছের আঁশের মতো ধূসর বর্নের আবরন পড়ে।
  • ফুসকুড়িগুলো খুঁটলে রক্তক্ষরণও হতে পারে।
  • লাল ছোট দানা বা ফুসকুড়িগুলো বড় হলে পুঁজ দ্বারা পরিপূর্ণ হয়ে প্রদাহের সৃষ্টি করে।
  • ত্বকের প্রদাহের কারণে কখনও কখনও রোগীর জ্বর আসে।

সোরিয়াসিসের প্রভাব-

সোরিয়াসিস ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদে শরীরের অন্যান্য অঙ্গেও প্রভাব ফেলে। সোরিয়াসিসের ফলে আর্থ্রাইটিস, হৃদরোগ,লিভারের রোগ, রক্তে স্নেহজাতীয় পদার্থের ভারসাম্যহীনতা সহ মানসিক রোগ হতে পারে।

এছাড়াও সোরিয়াসিস পুরো শরীরে ছড়িয়ে গিয়ে ইরাইথ্রোডার্মার মতো মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি করে মৃত্যুও ঘটাতে পারে। একারণে প্রথম থেকেই এই রোগের সঠিক চিকিৎসা করা প্রয়োজন।

সোরিয়াসিস রোগে করণীয়-

  • সামান্য আপেল সিডার ভিনেগারের সাথে পানি মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করুন। ১৫/২০ মিনিট পরে আক্রান্ত স্থানটি শুকিয়ে গেলে ধুয়ে নিন। তবে আক্রান্ত স্থান থেকে রক্তপাত হলে এটি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • গরম পানিতে সামান্য ডেড সি বা ইপসম লবণ মিশিয়ে শুষ্ক এবং আঁশ ওঠা স্থানে লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে, এরপর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে আরাম মিলবে।
  • বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত খাদ্যতালিকায় হলুদ সোরিয়াসিস সমস্যায় স্বস্তি দেয়।
  • অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ চা গাছের তেল ব্রণসহ সকল ধরনের চর্মরোগ অ্যাথলিটস ফুট এবং সোরিয়াসিস চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
  • গোসলের ঠান্ডা পানিতে ওটসের গুঁড়া মিশিয়ে গোসলের ফলে সোরিয়াসিস সমস্যার সমাধান হবে।
  • অ্যালোভেরার প্রদাহ বিরোধী উপাদান সোরিয়াসিসে আক্রান্ত স্থানের লালচে ভাব কমাতে সাহায্য করে। এবং স্বস্তি দিতে পারে।
  • এছাড়াও ক্যাপসাইসিনযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করে সোরিয়াসিসের লালচে ভাব, ব্যথা এবংপ্রদাহ কমাতে পারেন।

সোরিয়াসিসের চিকিৎসা- রোগের উপর নির্ভর করে চিকিৎসা ব্যবস্থা কেমন হবে। যেমন-

  • সাধারণত সোরিয়াসিস মৃদু মাত্রার হলে, সেক্ষেত্রে স্টেরয়েড মলম, ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম এবং অয়েন্টমেন্ট ব্যবহার করলেই চলে।
  • মলম বা অয়েন্টমেন্টে কাজ না হলে এবং রোগ বাড়তে থাকলে, সেক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শে মুখে খাবার ঔষধ যেমন- মিথোট্রেক্সেট, সাইক্লোস্পোরিন, এসিট্রেসিন ইত্যাদি গ্রহন করতে হবে।
  • আবার মলম এবং খাবার ঔষধ দিয়েও যদি কাজ না হয়, তবে ক্ষেত্রবিশেষে ফটোথেরাপি, আলট্রাভায়োলেট রশ্মি দিয়েও চিকিৎসা দেওয়া হয়।
  • সোরিয়াসিস দিয়ে নখ আক্রান্ত হলে ইনজেকশন দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
  • সন্ধি আক্রান্তের ক্ষেত্রে বাতরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা গ্রহন করতে হবে।

সোরিয়াসিস বংশগত দীর্ঘমেয়াদী চর্মরোগ। একবার আক্রন্ত হলে, এই রোগ থেকে নিস্তার পাওয়া যায় না। তাই এই রোগে আক্রান্ত হওয়া থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করতে হবে। এর জন্য যা করা প্রয়োজন-

  • সুস্থ্য স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে হবে।
  • ধূপমান থেকে বিরত থাকা।
  • শরীরে সঠিক এবং আদর্শ ওজন বজায় রাখা।
  • মানসিক স্ট্রেস থেকে দূরে থাকা।
  • পর্যাপ্ত সুষম খাদ্য গ্রহন করা।
  • সোরিয়াসিস যেহেতু বংশগত রোগ তাই গর্ভবতী নারীর গর্ভধারনের সময় ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সন্তন ধারণ করা, যাতে পেটের সন্তান এই রোগে আক্রান্ত না হয়।

শুক্রবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

চুল পড়ার কারণ ও প্রতিকার

 চুল পড়ার কারণ ও প্রতিকার

সাধারণত চুল পড়ার কারণগুলো ব্যক্তির স্বাস্থ্য, পুরুষ এবং মহিলার জীবনযাপন ব্যবস্থা, পরিবেশগত উপাদানের উপর ভিত্তি করে। চুল পড়ার কিছু সাধারণ কারণ নিম্নরুপ-

  • অতিরিক্ত স্ট্রেস এবং মানসিক চিন্তার কারণে চুল পড়তে পারে।
  • অতিরিক্ত শারীরিক এবং মানসিক পরিশ্রমের ফলে চুল পড়তে পারে।
  • শারীরিক কোন অসুস্থ্যতার কারণে চুল পড়তে পারে।
  • নারীর গর্ভধারনের কারণে চুল পড়তে পারে।
  • সস্তা মানের অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহারে চুল পড়ে যেতে পারে।

উপকরন-

  • টকদই
  • মধু
  • লেবুর রস

ব্যবহার-প্রনালী- চুলের প্রয়োজন মতো টকদই নিয়ে এরসাথে মধু এবং লেবুর রস মিশিয়ে হেয়ার প্যাক তৈরি নিতে হবে। এই প্যাক চুলে এবং মাথার ত্বকে লাগিয়ে অপেক্ষা করতে হবে। ২৫/৩০ মিনিট পরে প্যাক কিছুটা শুকিয়ে আসলে শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে নিতে হবে। ভিটামিন বি ও প্রোটিন সমৃদ্ধ এই প্যাক চুলের শুষ্কতা দূর হয়ে চুলে আর্দ্রতা বজায় রাখে।

উপকরন-

  • মেথি
  • টকদই
  • মধু

ব্যবহার-প্রনালী- চুলের প্রয়োজন মতো মেথি রাতে পানিতে ভিজিয়ে রেখে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। এরসাথে টকদই এবং মধু মিশিয়েও চুলে লাগাতে পারেন। আবার শুধু মেথির পেস্টও লাগাতে পারেন। এই প্যাক চুলে লাগিয়ে ২৫/৩০ মিনিট পরে প্যাক কিছুটা শুকিয়ে আসলে শ্যাম্পু করে ধুয়ে নিতে হবে। মেথির এই প্যাক চুলকে নরম, মসৃণ করার পাশাপাশি চুলের দ্রুত বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।

এছাড়াও-

  • নারকেল দুধ- নারকেল দুধে রয়েছে স্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা স্বাস্থ্যকর চুলের জন্য প্রয়োজন। এছাড়াও নারকেল দুধে রয়েছে প্রোটিন এবং পটাশিয়াম, যা চুলকে করে সতেজ আর স্বাস্থ্যোজ্জ্বল। সপ্তাহে একদিন এই তেল হালকা হাতে ম্যাসাজ করলে উপকার পাওয়া যাবে।
  • অ্যালোভেরা- অ্যালোভেরা পাতা থেকে জেল বের করে চুল এবং মাথার ত্বকে লাগালে চুল এবং মাথার ত্বকের পিএইচ ব্যালেন্স নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। তবে সরাসারি পাতার জেল সহ্য না হলে, সেক্ষেত্রে কিছুক্ষন মৃদু আঁচে গরম করেও ব্যবহার করতে পারেন।
  • নিমপাতা- নিমপাতা খুব ভালো করে পানিতে ফুটিয়ে বোতলে ভরে ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে সপ্তাহে অন্তত একবার শ্যাম্পু করার পর নিমপাতার পানিতে চুল ধুয়ে নিলে খুশকিসহ স্ক্যাল্পের অন্যান্য সমস্যা দূর হবে।   

চুলের জন্য কলা ব্যবহার করার সুবিধা কি

  চুলের জন্য কলা ব্যবহার করার সুবিধা কি কলা চুলের গঠন, ঘনত্ব এবং চকচকে বাড়াতে পারে? কলার হেয়ার মাস্কের উপকারিতা DIY হেয়ার মাস্ক রেসিপি চু...